প্রিন্ট এর তারিখঃ Jul 21, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jul 21, 2026 ইং
সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনেও কাটছে জটিলতা

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সেবা সহজীকরণ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে এসএসসি বা সমমানের পাবলিক পরীক্ষার সনদের ওপর ভিত্তি করে মাঠ পর্যায় থেকেই সরাসরি জন্ম তারিখ সংশোধন করা যাবে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার জটিলতা নিরসনে বিদ্যমান দুই ধাপের তদন্ত প্রক্রিয়া কমিয়ে এক ধাপে নামিয়ে আনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব এনআইডি সংক্রান্ত সংস্কার উদ্যোগের কথা জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
সচিব জানান, এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি কমাতে মাঠ পর্যায়ে ডেলিগেশন বা ক্ষমতা হস্তান্তরের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে জেএসসি, এসএসসি বা পিএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষার সনদ দিয়ে জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন করলে তা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের পরিবর্তে মাঠ পর্যায় থেকেই নিষ্পত্তি করা হবে।
এ ছাড়া, এনআইডি স্থানান্তর বা ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যেখানে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ সাপেক্ষে নাগরিকরা সেবা পাবেন। ১৫ বছর পর পর এনআইডি নবায়নের ক্ষেত্রে পারিবারিক তথ্যের সঠিকতা ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন করতে হবে, যেখানে আবেদনকারীকে তার ‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা পারিবারিক পরিচয়ের তথ্য দিতে হবে।
প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়ম প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার কথা জানান সচিব। তিনি উল্লেখ করেন, আগে প্রবাসীদের বায়োমেট্রিক ও আবেদন পাওয়ার পর দেশে তদন্তে পাঠানো হতো এবং তদন্ত প্রতিবেদন পজিটিভ আসলে তা সিস্টেমে আপলোড করা হতো। নতুন নিয়মে প্রবাসীরা বায়োমেট্রিক দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা অনলাইনে আপলোড হয়ে যাবে এবং ঢাকায় প্রাথমিক তদন্ত শেষে তথ্যের সঠিকতা মিললেই এনআইডির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। ফলে অতিরিক্ত একটি ধাপ কমে গিয়ে প্রবাসীদের এনআইডি পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক দ্রুত ও সহজ হবে।
অনলাইনে ও মাঠ পর্যায়ে এই সেবাদান কাঠামোর পাশাপাশি দেশের নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা পরিবর্তনের একটি পরিকল্পনা নিয়ে কমিশন আলোচনা করেছে। সচিব জানান, বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের এনআইডি ও ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহ করা হয়, যা ১৮ বছর পূর্ণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় সক্রিয় হয়। এই তথ্য সংগ্রহের সময়সীমা আরও কমিয়ে এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি বা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়স পর্যন্ত নামিয়ে আনা যায় কি না, তা নিয়ে একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা চলছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কমিশন সভায় এনআইডি সেবার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন সংশোধনের একাধিক প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে, যা শীঘ্রই পরবর্তী ব্যবস্থার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।
সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, এনআইডি নবায়ন ও সংশোধন পদ্ধতিগুলো আরও বেশি নাগরিকবান্ধব ও পরিশোধিত করতে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা ও সুপারিশগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে।
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।